Homeব্যবসামাশরুম নিয়ে যত কথা || জানুন মাসরুম এর সব উপকারিতা সম্পর্কে

মাশরুম নিয়ে যত কথা || জানুন মাসরুম এর সব উপকারিতা সম্পর্কে

মাশরুম কি

মাশরুম নামটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। কিন্তু আমরা কি সকলে এর গুণাগুন সম্পর্কে জানি? মাশরুম হল বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। এটি যে কেবল খেতে অনেক বেশি সুস্বাদু, তা কিন্তু নয়। এর গুনাগুনও রয়েছে অনেক বেশি, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি।

মাশরুম
মাশরুম

মাশরুম কিভাবে খায়

মাশরুম আমরা অনেকে নানান রকমভাবে খেতে পারি। সালাদ হিসেবে, ভেজে, স্যুপ বানিয়ে অথবা রান্না করেও খাওয়া যায়। আমাদের সকলের কিন্তু উচিত প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাশরুম রাখা। কারন এতে বিদ্যমান খাদ্যগুন আমাদের শরীরে নানা রকমের ভিটামিন প্রদানের পাশাপাশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বাড়িয়ে তুলবে।

মাশরুম এর বৈজ্ঞানিক নাম

মাশরুমের ইংরেজি শব্দ হল Mushroom, এটি হল একধরনের ছত্রাক। এবং বেশির ভাগ মাশরুমই ব্যাসিডিওমাইকোটা এবং কিছু অ্যাসকোমাইকোটার অন্তর্ভুক্ত। মাশরুম অন্যান্য উদ্ভিদের মত সালোকসংশ্লেষোণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য তৈরীর জন্য সূর্যের দরকার হয় না।

মাশরুম কোন রাজ্যের

বিশ্বে সবচাইতে বেশি পরিমানে মাশরুম উৎপাদন হয় চীনে। বিশ্বে মোট যত মাশরুম উৎপাদিত হয় তার প্রায় অর্ধেক মাশরুম উৎপাদন করা হয় চীনে। Read More : কম্পিউটারের জনক কে? আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?

মাশরুম চাষ

বাংলাদেশের আবহাওয়া মাশরুম চাষের জন্য অনেক বেশি উপযোগী। মাশরুম চাষ করার জন্য কোন প্রকার উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না, তাই এটি যত বেশিই চাষ করা হোক না কেন এতে করে অন্য কোন ফসলের চাষ করার কোন ক্ষতি হয় না। চাইলে নিজ ঘরের আসে পাশে অব্যবহৃত জায়গাতেও মাশরুম চাষ করা যায়। এতে করে আমাদের দেশের বেকারত্ব দূর করা যাবে খুব সহজেই। এমন কি নারীরা মাশরুম চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং দেশের মাথা পিছু আয় ও বাড়ানো সম্ভব মাশরুম চাষের মাধ্যমে।

মাশরুম
মাশরুম

মাশরুম এর জাত

এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে কয়েক হাজার প্রজাতির মাশরুমের কথা জানা গেছে। এরমধ্যে শুধু মাত্র কয়েকটি জাতের মাশরুম খাওয়ার উপযোগী এবং বানিজ্যিকভাবে চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে চাষ হয় সবচেয়ে বেশি Oyster Mushroom, যা ঝিনুক মাশরুম নামে বেশি পরিচিত।

মাশরুম এর প্রকারভেদ

এগারিক্সঃ- এটি খাবার উপযোগি। এই মাশরুম গুলো বিষাক্ত এবং মাদক প্রকৃতির হয়ে থাকে।
বোলেটেসঃ- এই জাতের মাশরুম গুলোর অনেকগুলোই খাওয়ার উপযোগী হয়ে থাকে।
চান্টারলেসঃ- খাওয়ার উপযোগী মাশরুম।
কোরাল ফাঙ্গিঃ- এটিও খাওয়ার উপযোগী মাশরুম।
কাপ ফাঙ্গিঃ- সচরাচর খাওয়ার উপযোগী হয়ে থাকে।
জেলি ফাঙ্গিঃ- এটি খাওয়ার উপযোগী হলেও খেতে খুব বেশি সুস্বাদু নয়।
পলিপোরেসঃ- এই মাশরুম অনেকের কাছে খুবই সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে গৃহীত।
পাফবলসঃ- এটিও খাওয়ার উপযোগী মাশরুম।
স্টিঙ্কহর্নসঃ- এই মাশরুম খাবার উপযোগী হলেও এর গন্ধ খুব একটা ভাল না
টুথ ফাঙ্গিঃ- এই মাশরুম বিষাক্ত না হলেও, খাবার উপযোগী না।

বাংলাদেশে চাষের উপযোগী মাশরুম

ঝিনুক মাশরুম (Oyster Mushroom)
দুধ মাশরুম (Milky Mushroom)
কান মাশরুম (Wood Ear mushroom)
বোতাম মাশরুম (Button Mushroom)
তাপ সহনশীল বোতাম মাশরুম (Heat Tolerate Button Mushroom)
শিতাকে মাশরুম (Shitake Mushroom)
খড় মাশরুম (Paddy Straw Mushroom)

মাশরুমের পুষ্টিগুণ

মাশরুম হল এমন একটি খাবার যার পুষ্টি গুনাগুন এত বেশি, যে বলে শেষ করা যায় না। মানব দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাশরুমের জুড়ি নেই। এতে আছে ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল, ফ্যাট সহ আরো অনেক উপাদান বিদ্যমান।
তাহলে জেনে নেওয়া যাক মাশরুমে পুষ্টি উপাদানগুলোঃ
প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুমে রয়েছে প্রোটিন ২৫-৩৫ গ্রাম, ভিটামিন ৫৭-৬০ গ্রাম, এবং মিনারেল রয়েছে ৫-৬ গ্রাম, শর্করা, স্বাস্থ্য উপকারী চর্বি ৪-৬ গ্রাম এবং এতে আঁশের পরিমানও রয়েছে অনেকগুন বেশি, এবং এর পরিমান প্রায় ১০-২৮%।

অনান্য খাবারের চাইতে তুলনায় এর পরিমান অনেক বেশি। শুকনো মাশরুমে ৫৭-৬০% ভিটামিন ও মিনারেল থাকে যেটা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুবই কার্যকারী ভূমিকা পালন করে থাকে।ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও মাশরুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস এর মত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকায় এটি মানবদেহকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। Read More : মানব জীবনে সুস্থতায় খেলাধুলার উপকারিতা

মাশরুম এর বৈশিষ্ট্য

পৃথিবীতে প্রায় চৌদ্দ হাজার প্রজাতির মাশরুমের কথা জানা যায়। মাশরুমের খাওয়ার উপযোগী অংশটি অল্প কিছুদিন সতেজ থাকে। বিশ্বের অধিকাংশ মাশরুমেরই উপরের অংশটি টুপির মত, এবং নিচের অংশটি দন্ডের মত থাকে। আবাদকৃত মাশরুম গুলো আকারে ক্ষুদ্র আকৃতির হয়ে থাকে। মাশরুম খুব তাড়াতাড়ি তার বৃদ্ধি ও প্রসারতা ছড়াতে পারে। অনেক গুলো প্রজাতির মাশরুম এক রাতেই মধ্যেই উৎপাদিত হতে দেখা যায়, কিন্তু বেশির ভাগ মাশরুমই আস্তে আস্তে বড় হয়ে থাকে।

 

মাশরুমের উপকারিতা

মাশরুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

মাশরুম মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। কারন মাশরুমে প্রাকৃতিকভাবেই অনেকবেশি ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর প্রধান কাজ হল মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে

মাশরুম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং হৃদপিণ্ডের কাজ সচল রাখতে সহায়তা করে থাকে। কারন এতে উচ্চমাত্রার আঁশ এবং প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম থাকে। এবং সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে খুবই কম।

ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে মাশরুম

ওজন কমিয়ে এনে পেশী শক্তিশালী করতে সাহায্য করে মাশরুম। মাশরুমে থাকা আঁশ অনেকক্ষন পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এবং এটি রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে। বেশি পরিমানে ফ্যাট সমৃদ্ধ লাল মাংসের বদলে মাশরুম খেলে ওজন কমাতে সহজ হয়।

মাশরুম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে

মাশরুম খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। মাশরুমে থাকা ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অনেক বেশি উপকারী। মাশরুমে রয়েছে এনজাইম এবং প্রাকৃতিক ইনসুলিন, এটি চিনিকে দূর করতে পারে।

অ্যানিমিয়া দূর করতে সহায়ক

মাশরুমে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন। অ্যানিমিয়ার রোগীদের রক্তে আয়রন খুব কম পরিমাণ হয়। যার কারনে মাথা ব্যাথা, মানসিক অবসাদ, এবং হজমের সমস্যা হয়ে থাকে। তাই মাশরুম অ্যানিমিয়ার সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

মাশরুম কোলেস্টেরল কমায়

মাশরুমে থাকা ফাইবার, আমাদের দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া মাশরুমে কোলেস্টরেল কমানোর প্রধান উপাদান লোভাষ্টটিন, এনটাডেনিন, ইরিটাডেনিন, কিটিন এবং ভিটামিন বি, সি ও ডি থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

মাশরুমে রয়েছে মানব দেহের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল ও সেলেনিয়াম নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ঝুকিপূর্ণ অনেকগুলো রোগ, যেমন- স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা, স্ট্রোক, এবং ক্যান্সার থেকে মানবদেহকে রক্ষা করে।

মাশরুম হাড়ের শক্তি বাড়ায়

মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম থাকার কারনে এটি আমাদের হাড়ের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। গাঁটের ব্যথা কমাতে এবং হাড়ের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে মাশরুমের ভূমিকা অপরিসীম।

মাশরুম ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায্য করে

মাশরুম মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রস্টেট ক্যানসার এবং ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করতে মাশরুমের কোনও জুড়ি নেই। মাশরুমে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যাল যা টিউমারের বৃদ্ধিতে বাঁধার সৃষ্টি করে থাকে।

ত্বক সুস্থ রাখে মাশরুম

মাশরুমে থাকা নিয়াসিন ও রিবোফ্লাবিন, যা ত্বকের জন্য অনেক বেশি উপকারী। এতে ৮০-৯০ ভাগ পানি থাকে এটি ত্বককে কোমল ও নরম রাখে।

ভিটামিন ডি

শাক-সব্জিতে ভিটামিন ডি খুব সহজে পাওয়া যায়না বললেই চলে। কিন্তু মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি আছে, যা ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

মাশরুম হজমে সহায়তা করে

মাশরুমে থাকা ফাইবার ও এনজাইম হজমে সাহায্য করে থাকে। যা অন্ত্রের জন্য উপকারি ব্যাকটেরিয়ার কাজ বাড়াতে সাহায্য করে এবং কোলন এর পুষ্টি উপাদান শোষণকেও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। মাশরুমের আরো নানা রকমের ভিটামিন রয়েছে, যা মানবদেহে আরো অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগে। যেমনঃ মাশরুমে থাকা ভিটামিন বি স্নায়ুর জন্য অনেক উপকারী এবং মাশরুম আলঝেইমার্স এর মত বার্ধক্য জনিত রোগ থেকে রক্ষা করে। এতে থাকা ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে অনেক বেশি উপকারি।

জন্ডিস ও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ করতে মাশরুম খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মাশরুমে রয়েছে নিউক্লিক এসিড ও এন্টি এলার্জেন যা কিডনি রোগ ও এলার্জি রোগ প্রতিরোধক করে। কারন এতে সোডিয়ামের পরিমাণও খুব কম। মাশরুম আপনি কাঁচা এবং শুকনা দুই অবস্থাতেই খেতে পারবেন। আজ থেকে আমরা চেষ্টা করবো অসুধের মত উপকারি এই মাশরুম নিয়মিত খাওয়ার। যাতে নিজে এবং পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি।

Rahmannasimahttps://dokandaari.xyz
খুব ছোট বেলা থেকেই লেখালেখির খুব নেশা। তাই লেখতে ভালবাসি। আমি আতিকুর রহমান।ইনফরমেশন মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। কিছু টিপস এবং অনলাইনে আয় বিষয়ে সঠিক গাইডলাইন সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ব্লগিং এ জড়িত হয়েছি। ধন্যবাদ
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × five =

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular