Homeবিনোদনবলা না বলার গল্প-২০২১

বলা না বলার গল্প-২০২১

ইচ্ছেটা আজ স্বইচ্ছায় ত্যাগ করেছে তার চাওয়া টুকু।ভালোলাগা টা অসীম হলেও বিশ্বাসের একটু কমতি ছিল বৈ কি!রোদ টা প্রখর ;শীতের ও কমতি ছিল না।সময়টা দ্বিপ্রহরের কাছাকাছি।ভালোলাগা বনাম মন্দলাগার পাঠ চুকিয়ে উঠেছি খানিকটা।আমার আর ওর সম্পর্ক টা এখন অনেকটাই নড়বড়ে। ওহ্ ‘ও’মানে হচ্ছে ‘আসমানী’।এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের খুব কাছের একজন।
বেশ বুঝতেই পারছেন! এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র টা আমারই।আমি অনড়। শুধু নামে নই;কাজে এবং কথায় ও তার প্রমাণ মেলে।
কিছুটা রোমান্টিক!আবছা বদমেজাজী আর বাকীটা একরোখা। এককথায় যাকে ‘গাওড়া’ বলা যায়।

আমার নামের মতো আমার সিদ্ধান্তেও আমি সবসময়ই অনড় থাকি।হোক সেটা সঠিক কিংবা পৃথিবীর সেরা ভুলের একটি।
এবার আসুন, গল্পটার অস্তিত্ব ছুঁয়ে আসি।বেশ ভালোই চলছিল ৫ বছরের প্রেম আমাদের।বিয়ে অবধি গড়াইতেছিল সম্পর্ক। দু’পক্ষেরই দেখাদেখি যখন শেষ দিকে।তখনই গল্পের দিক পাল্টে অন্যদিকের দিগন্ত ছুঁতে লাগলো আমার একরোখা সিদ্ধান্তটা।
আমারই বা কি করার ছিল?আমি সন্দেহ নিয়ে কিভাবে বিশ্বাসের ঘড় গড়ে তুলবো?বিয়ে তো আর প্রেমের একটা ডেটিং নয়!
ইহা সাড়াজীবনের ডেট ফিটিং!যাহা বহিঃবিভাগ থেকে হৃদ কম্পনের শেষ কেন্দ্রস্থল অবধি বিরাজমান।আসমানীর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম!তা বললে যে কোন মেয়েই কিংবা যে কোন মেয়ের ফ্যামিলিই নড়েচড়ে বসবে।প্রিয় পাঠক,আপনারাও একটু নড়েচড়ে বসেন। আমিও একটু নড়েচড়ে বসার চেষ্টা করছি।আমি কি জানতে চেয়েছিলাম!কেন জানতে চেয়েছিলাম?

তা আপনাদের জানতে হলে একটু ব্যাকফ্ল্যাশ এ যেতে হবে।আমি যখন হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করি।তখনকার কিছু ঘটনা উল্লেখ করতে হচ্ছে।কয়েকজন ছাত্র মিলে একটা রুমে ভাড়া থাকতাম।এরমাঝে তিনজন আমার বড় ;আর দুইজন আমার সেম ইয়ারের।ওখানে দেখেছি, প্রায়ই বড়ভাইদের বন্ধুরা প্রেমিকা নিয়ে আসতো।রুম ডেটিং এর নামে অপকর্মে লিপ্ত হতো।দু’জন দুজনার জৈবিক চাহিদা মেটাতো।ওরা ইউনিভার্সিটিতে পড়তো আর প্রেমের নামে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতো।

কেউ কেউ তো জাস্ট ফ্রেন্ডের সাথে এমন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়তো।দু’বছর ওখানে থাকার কালে আমার মনে হতে লাগলো পরিচিত সব ছেলে মেয়েরাই তাদের ভার্জিনীটি হারাচ্ছে।এমন ও ছেলে আছে যারা ছ’মাস পর পর গার্লফ্রেন্ড পাল্টাতো।তাদের গল্পে এমন অ-গল্প উঠে আসতো যে,তাদের কারো কারো হাত থেকে চাচাতো,ফুফাতো,মামাতো বোনেরা কেউ ছাড় পায় নাই।কোন কোন মেয়ে নাকি দুলাভাই,বিয়াই দ্বারাও সতীত্ত্ব হারাতো।একটা সময় এমন অবস্থা তৈরি হলো যে,সামনে, পিছনে, ডানে, বামে যতো মেয়ে দেখতে পাই সবার চালচিত্র সেম।কেউ তার সতীত্ত্ব ধরে রাখতে পারেনি।

ভয় হতো,আমি যার সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছি।সে ঠিক আছে তো!প্রেম টা না কোন রকম চালিয়ে দিলাম।কিন্তু,ঘরের বউ বলে কথা!ঘরের বউ টা তো পবিত্র থাকা চাই ই চাই। নষ্ট ফুল দিয়ে কি আর পূজার ঢালা সাজানো যায়!পবিত্র ফুল দিয়েই পূজা মানায়।পূজা দিয়ে ফুল পবিত্র হয়না;বরং পবিত্র ফুল দিয়েই পূজা কে সম্মান জানাতে হয়।সেই ভয়,উৎকন্ঠা আমার আপাদমস্তক ঘিরে ফেলেছে।অবশ্য,তার একটা নির্দিষ্ট কারন ও আছে বৈ কি।আসমানীর লাইফে আমিই প্রথম পুরুষ নই।তার লাইফে আগেও একজন এসেছিল প্রায় ২ বছরের জন্য। ছেলেটার অবহেলার কারনেই সম্পর্ক টা ভেস্তে যায়।

কিন্তু,তার আচরণ খুব একটা ভালো ছিল না নাকি।কি করে তার সতীত্ত্বের প্রমাণ পাবো।এ নিয়ে আমার মাথায় জ্যাম।শেষ পর্যন্ত একটা চিরকুটে লিখেই দিলাম!”তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার কোন কমতি নেই প্রিয়া।তবুও আমি তোমাকে একটু যাচাই করে নিতে চাই।যেহেতু, সাড়াজীবন পাশে থাকার প্রক্রিয়ায় আমরা আবদ্ধ হতে যাচ্ছি ;সেহেতু,তোমার ব্যপারে আরোও একটু ক্লিয়ার হতে চাই।তুমি কি তোমার সতীত্ত্বের প্রমাণ দেবে?

জানতে চেয়েছিলাম আসমানীর ভার্জিনীটির ব্যপারে।সে উত্তরে চিরকুটে বলেছিলো-আমার ব্যপারে তোমার যে সন্দেহ তা কোনদিন শেষ হওয়ার নয়।যদিও আমি সতীত্ত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই।তাই দু’জনের মঙ্গলের জন্য বিয়ে টা হচ্ছেনা।ব্যস, এইটুকুই ছিল ওর কাছ থেকে আমার শেষ পাওনা।আর কথা হয়নি।কথা হয়নি ব্যপারটা এমন না!কথা বলতে পারিনি কিংবা কথা বলার সুযোগ হয়নি।এভাবেই দু’জনার মাঝে একটি দেয়াল তৈরি হয়ে গেল।দেয়াল থেকে দূরত্ত্ব। অতঃপর আরোও দুই বছরের বিয়োজন।
আজ কিছুদিন ধরেই ওকে খুব বেশি মনে পড়ে।কারনে অকারণে মনে পড়ে।

দোষের কথায় মনে পড়ে;গুণের কথায় ও মনে পড়ে।
সে দিন বৃষ্টি ছিল।মুষলধারে বৃষ্টি ঝড়ছিল সকাল থেকেই।আমি অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলাম বাইকে চড়ে।কিছু দূর যেতেই খেয়াল করলাম বাইকের চাকা পাংচার।ব্যস,গাড়ি থেকে নেমে ঠেলতে শুরু করলাম।অবশ্য, রেইন কোর্ট পড়নে ছিল বিধায় একটা স্বস্তির নিশ্বাস ছিল।হঠাৎ পিছন থেকে কেউ বললো,খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি।পিছন ফিরে তাকাতেই আচমকা চমকিত হইয়া গেলাম ;স্মৃতির পাদদেশ থেকে মুহুর্তেই ঝড় শুরু হয়ে গেল।

আরে এ যে আমার সব সাধনার ধন।আমার ভালোলাগার স্বরূপকাঠি। আসমানী বলে উঠলো,অহ পরিচয় করিয়ে দেই এই যে ওনি আমার স্বামি ‘ইশতিয়াক’।আর ওনি ——-।ব্যস ওনার পরিচয় দিতে হবেনা। আমি বুঝতে পেরেছি ওনি জনাব সেলিম।এভাবেই নিঃসংকুচে বলতে লাগলো জনাব ইশতিয়াক।
আমি সব জানি। আসমানী আপনার ব্যপারে পুরাটাই বলেছে আমাকে।আচ্ছা,ঠিক আছে আমি আগাই।তুমি একটু গল্প করে আসো বলেই ওনি হাটতে লাগলো। আসমানী জিজ্ঞেস করলো, কেমন আছো?
হুম এইতো ভালো। তুমি?
আসমানী বললো দেখতেই পাচ্ছো।কতোটা ভালো আছি।আমার স্বামীর মতো দ্বিতীয় মানুষটি আর খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে।আমার প্রতি কতোটা কেয়ারিং সে তা বলে বোঝাতে পারবোনা।খুব ভালো মনের একটা মানুষ।তবে জানোতো,এতো সুখের মাঝেও কোথায় যেন একটা না পাওয়া কাজ করে।মাঝ রাতে শ্বাসনালীর কাছে এসে যেন শ্বাস টা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় সেই অস্বস্তির নামই হয়তো ‘তুমি’।ততোক্ষণো বৃষ্টি ঝড়ছে।সে ভিজে যাচ্ছে;সাথে ডাগর কালো হরিণী চোখ গুলোও।

তবুও, বৃষ্টির পানি আর চোখের পানির রং চিনতে বিন্দু মাত্র ভুল হয়নি আমার।যা ওর গাল বেয়ে পড়ছে।বাইক ধাক্কাতে ধাক্কাতে ওর সাথে চলছে আলাপন।সেও বাইকের পিছনের অংশে হাত লাগাচ্ছে একটু হেল্প হয় এই উদ্যেশ্যে।কথার ফাঁকে ওর হাতটা ধরতে চেয়েছিলাম।বোঝতে পেরে,সহসায় হাত টা সরিয়ে নিলো।বুঝিয়ে দিলো,আমি অধিকারের বাইরে অবস্থান করছি।অথচ, যে আমার নামে লুটোপুটি খেত!আজ সে-ই কিনা হাজার লক্ষ মাইল দূরে অবস্থান করছে।ইচ্ছে করছিল,পিচঢালা রাস্তায় শুয়ে চিৎকার করে কাঁদি। আর ওকে ঝাপটে ধরে বলি,তোমার সতীত্ত্ব নিয়ে কোনদিন প্রশ্ন করবোনা।তুমি আমায় নিয়ে চলো সেথায়; যেখানে দু’জন ছাড়া আর কেউ থাকবেনা।

নিরবতার আবছা আলোটা ভেঙ্গে সে জিজ্ঞেস করলো বিয়ে শাদি করেছো নিশ্চয়ই?
কি করে তারে বলি!আমার সাড়া পৃথিবীই তুমিময়।তুমি ছাড়া ভাবনায় কেউ নেই।নিজের অবলীলায় আজ আমি অপরাধী।নিজেকেই যে নিজে ক্ষমা করতে পারবোনা। যাক,আজকে চলি।’ও ‘আবার অপেক্ষা করছে বলেই হাঁটা শুরু করলো আসমানী।
আমি ও আমার পৃথিবী দু’টাই থমকে দাঁড়ালো। ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।কিছুক্ষণ পর ইশতিয়াক সাহেব এসে সামনে দাঁড়ালেন।আর ধীরে ধীরে কানের কাসে এসে বললেন-‘আসমানী কিন্তু ভার্জিন ছিল’। আর আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।আপনি ভালো ছেলে বলেই তা সম্ভব হলো।
Thanks a lot brother.
Welcome জানানোর মতো ভদ্রতা কিংবা সৌজন্যতাবোধ আমার মাঝে তখন ছিল না।
Sorry বলাও হলোনা——।আর হবে কিনা তাও জানা নাই———-।

Rahmannasimahttps://dokandaari.xyz
খুব ছোট বেলা থেকেই লেখালেখির খুব নেশা। তাই লেখতে ভালবাসি। আমি আতিকুর রহমান।ইনফরমেশন মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। কিছু টিপস এবং অনলাইনে আয় বিষয়ে সঠিক গাইডলাইন সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ব্লগিং এ জড়িত হয়েছি। ধন্যবাদ
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

eleven + 9 =

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular