Homeব্যবসা১০টি সেরা পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া জেনে নিন এখনই

১০টি সেরা পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া জেনে নিন এখনই

পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া ২০২১

আপনার হাতে হয়ত অনেক টাকা আছে এবং আপনি পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া জানেন না বা খুছতেছেন তাহলে আপনার জন্য আজ সেরা ১০টি পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করতে চলেছি। তাই শুরু থেকে শেষ অবধি এই আইডিয়া গুলো পড়ুন এবং এই আইডিয়াগুলো আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

বর্তমানে যুব সমাজের অনেকেই এখন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। প্রচলিত অপ্রচলিত নানা ধরনের ব্যবসায় তারা বিনিয়োগ করছেন। দেশের চাকরির বাজারের প্রতি না ঝুঁকে এখন তারা অনেকেই ব্যবসায় এর প্রতি বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে । ব্যবসা শুরু করতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত। কিছু কৌশল ও নিয়ম মেনে চললে অল্প দিনেই ব্যবসায় লাভবান হওয়ার যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিনিয়োগ করতে হয়।না বুঝে বিনিয়োগ করলে ব্যবসায় লাভের থেকে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে বেশি। যে সব ব্যবসায় পুজিঁ ও কম লাগে আবার জায়গা ও কম লাগে সেসব ব্যবসায় করার সুবিধা বেশি। খুব স্বল্প পরিসরেই এসব ব্যবসা শুরু করা যায়। এ ধরনের ব্যবসা নতুন বা পুরাতন সবাই সহজেই করতে পারবেন। এবার চলুন জানা যাক কিছু পাইকারি ব্যবসায় সম্পর্কে।

১. সবজি ব্যবসা

সবজি ব্যবসা কাঁচা তরকারীর ব্যবসা একটি ভাল লাভজনক ব্যবসা।কারন মামুষ তার খাদ্য চাহিদা মেটাতে রোজই তরকারী কিনবে।এবং এটি পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় মানুষ একসাথে বেশি পরিমান কিনে মজুদ ও করতে পারে না।এজন্য টাটকা সবুজ সতেজ সবজির ব্যপক চাহিদা ক্রেতাদের কাছে। আপনি যদি সতেজ সবজি পাইকারি কিনে বিক্রি করতে পারেন তবে তা বেশ লাভজনক হবে।আপনি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেও কিনতে পারেন অথবা আরত থেকেও কিনতে পারেন। এই ব্যবসায় শুরু করতে অনেক বেশি পুঁজির প্রয়োজন পরে না।স্বল্প পুঁজি দিয়ে ও ব্যবসায় শুরু করা যায়।আর আপনি যদি নিজেই সবজি চাষ করেন তবে আরও ভাল।কারন তখন কোন মধ্যস্থাকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই আপনি আপনার পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।তাছাড়া শহরে টাকটা সবজির চাহিদা একটু বেশি।টাটকা সবজি দেখলে সকলেই কিনতে চায়।তার সাথে আপনি যদি ফরমালিনমুক্ত সবজি বিক্রি করতে পারেন তবে তো কথাই নেই।ক্রেতারা হুমরি খেয়ে পড়বে আপনার সবজির জন্য।পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া

২. পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া (গয়নার ব্যবসা)

গয়নার ব্যবসা বর্তমানে মেয়েদের পোশাকের পাশাপাশি বৈচিত্র্যতা এসেছে তাদের গয়নায়।পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে বিভিন্ন ধরনের গয়না ব্যবহার করেন তারা।নাক ফুল,কানের দুল,হার,বালা,ব্রেসলেট,টিকলিসহ নানা ধরনের গহনা তারা ব্যবহার করে।এজন্য এই ব্যবসায় বৈচিত্র্যতা বেশি।বিভিন্ন এনটিক গয়না,পুঁথির গয়না,স্টোনের গয়নার চাহিদা হালের ফ্যাশনে বেশ জমে উঠেছে। তাই সোনালি এনটিক,রুপালী এনটিক,স্টোন,পুঁথি,গুজরাটি গয়না,গোল্ড প্লেটেটেড গয়নার মধ্যে যেকোন এক বা দুই ধরনের গয়না দিয়ে ব্যবসায় শুরু করতে পারেন।আপনার গয়নার বেশির ভাগ ক্রেতারাই হবে নারী ক্রেতা।

তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে যদি পণ্য আনেন তবে খুব দ্রুতই আপনি লাভবান হতে পারবেন।গয়নাগুলো আপনি পরিপূর্ণ সেট হিসেবেও পাইকারী কিনতে পারবেন অথবা আপনি চাইলে একটি গয়নার বিভিন্ন অংশ আলাদা কিনে এনে নিজের পছন্দমত তৈরি করে নিতে পারবেন।যখন আপনি নিজে তৈরি করবেন তখন তার মধ্যে সতন্ত্রতা থাকবে এবং বৈচিত্র্য এবং নতুনত্ব থাকলে গ্রাহক আগ্রহীও হবে বেশি। এই ব্যবসায় শুরু করতে একদমই কম পুঁজি লাগে।আপনি চাইলে একদম নামমাত্র পুঁজি দিয়েও শুরু করতে পারবেন।

৩. পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া (ডিমের ব্যবসা)

ডিমের ব্যবসা বিভিন্ন ফার্ম থেকে পাইকারি দামে ডিম কিনে খুচরা মূল্যে বিক্রি করতে পারেন। আপনি বিভিন্ন ধরনের ডিম বিক্রি করতে পারেন যেমন হাঁস,মুরগির পাশাপাশি কোয়েল পাখির ডিম।খামারিদের কাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করে অথবা নিজেই ছোট্ট একটি হাঁস,মুরগি অথবা কোয়েল পাখির খামার তৈরি করতে পারেন।এতে আপনি ডিমের সাথে সাথে হাঁস,মুরগি ও কোয়েল পাখি বিক্র করতে পারবেন।আজ কাল খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ দেয় সরকার।এছাড়া ছোট বড় সকলেই ডিম পছন্দ করে থাকে এজন্য এর চাহিদাও ভাল।

৪. পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া (মৌসুমি ফলের ব্যবসা) 

মৌসুমি ফলের ব্যবসা মৌসুম বা সিজনকে টার্গেট করে ফল গ্রাম থেকে কৃষকের কাছ থেকে বা আড়ত থেকে পাইকারি ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করতে পারেন। প্রতিটি মৌসুম অনুযায়ী ফলের চাহিদা ভিন্ন হয়ে থাকে। এবং খদ্দেরদের কাছে মৌসুমি ফলের চাহিদাও বেশি থাকে।কারন নির্দিষ্ট সিজন ব্যতিত সারা বছর এ ফলগুলো পাওয়া যায় না।তাই আপনি যদি টাটকা মৌসুমি ফল বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেন তা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। সারা বছর ফলের ভিন্নতা থাকে।কখনো ফল উৎপাদন বন্ধ থাকে না।এছাড়াও বর্তমানে দেশি বাজারে বিদেশি ফলেরও চাহিদা অনেক। আপনি চাইলে মৌসুমি ফলের সাথে বিদেশি ফলের সমন্বয় করতে পারেন। আরও পড়ুন : চাকরির ইন্টারভিউ (Job Interview) তে কীভাবে সফল হবেন

৫. পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া – সুপারির ব্যবসা

সুপারির ব্যবসা স্বল্প পরিমানে অল্প পুঁজি দিয়ে সুপারি কিনে তা অন্যত্র বিক্রি করতে পারেন। অথবা বিভিন্ন আড়ত থেকে পাইকারি কিনে তা আবার খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট পাইকারিতে বিক্রি করতে পারেন।আপনার যদি নিজের সুপারি বাগান থাকে তাহলে নিজেই আড়তে সুপারির ব্যবসায় শুরু করতে পারেন।বিভিন্ন স্থানের আড়তদাররা আপনার কাছে এসে সুপারি কিনে নিয়ে যাবে।

৬. পাইকারী ব্যবসার আইডিয়া-মিষ্টির ব্যবসা 

মিষ্টির ব্যবসা এই ব্যবসায় আপনাকে নিজে মিষ্টি তৈরি করতে হবে বিভিন্ন আইটেমের। খুচরা ক্রেতারা তাদের চাহিদা মোতাবেক তা ক্রয় করবে।এই ব্যবসায় বেশ লাভজনক ও আলাদা কোন দোকানের প্রয়োজন পড়ে না আপনি আপনার ঘরে বসেই এই কাজ করতে পারবেন সহজেই তবে আপনাকে নানা রকমের মিষ্টি তৈরি করা জানতে হবে।সাথে সাথে মিষ্টি সমন্ধীয় যাবতীয় ধারণা রাখতে হবে।

৭. হোমমেইড বেকারি ফুড

হোমমেইড বেকারি ফুড বলতে যাবতীয় সব বেকারি আইটেম ঘরে বসে তৈরি করাকে বোঝায়।এখানে থাকতে পারে কেক,বিস্কুট, রোল,পিৎজ্জা,সেন্ডুউইচ,বার্গার ইত্যাদি। এই ব্যবসায় শুরুর জন্য আপনাকে বেকারি আইটেম তৈরি করা জানতে হবে অথবা স্বল্প দিনে ট্রেনিং নিতে হবে।এছাড়া বেকারি আইটেমে তৈরির প্রতিটি কাঁচামালই আপনাকে পাইকারি কিনে আনতে হবে।এই ফুডগুলো সাধারন মানুষের পাশাপাশি বেকারি দোকেনগুলোতেও সাপ্লাই দিতে পারবেন।

৮.কাগজের প্যাকেট তৈরি

কাগজের প্যাকেট তৈরি কাগজের বিভিন্ন সাইজের প্যাকেট তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন।এটিও একটি স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়। প্যাকেটটি সাধারনত মিষ্টির প্যাকেট অথবা শুকনা খাবার বহনকারী প্যাকেট হতে পারে।কাগজ পাইকারি ক্রয় করে এ ব্যবসায় করা হয়।প্যাকেটের সাইজ অনুযায়ী দাম হয়ে থাকে।ছোট প্যাকেটের এক দাম বড় প্যাকেটের এক দাম। ঘরে বসেই এ কাজ করা যায় সহজেই।

৯.মাছের খাবারের ব্যবসা

মাছের খাবারের ব্যবসা মাছের খাবার তৈরি করতে কয়েক রকমের কাঁচামালের প্রয়োজন হয়ে থাকে। মৎস খামারিরা এসব খাবার তাদের মাছের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য ক্রয় করে থাকেন। প্রক্রিয়াজাতকরন এসব মাছের খাবারের চাহিদা বেশ ভাল। প্রথমে কম টাকা দিয়ে এই কাজ শুরু করতে পারেন।

১০.মুড়ি ও চিড়ার ব্যবসা

 মুড়ি,চিড়ার পাইকারি ব্যবসায় অনেক ভাল।এটি একটি সহজ শ্রম ও কম মূলধনের পাইকারি ব্যবসায়।আপনি মুড়ি,চিড়া কিনে এনে অথবা চাল কিনে এনে নিজের তত্ত্বাবোধায়নে তৈরি করতে পারবেন। সরা বছরই এগুলো ভাল বিক্রয় তবে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে এর চাহিদা বেড়ে যায়।যেমন রোযা,পূজায় এ সব খাবার সবাই কম বেশি কিনে থাকে।

আশা করছি আপনাদের এই দশটি আইডিয়া ভাল লেগেছে। তবে যেকোন ব্যবসা করার আগে আপনাকে আগে রিচার্জ করতে হবে এবং অন্যরা এই ব্যবসাটি কিভাবে পরিচালনা করছে সেই বিষটি আপনাকে খেয়াল করতে হবে। তাহলে আপনি সফল হতে পারবেন। তাছাড়া এই ব্যবসা করে সফল হয়েছে এমন সব ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ করে শুরু করার চেষ্টা করুন । তাহলে ব্যবসায় লস হওয়ার চান্স কম থাকবে। ধন্যবাদ ।

Rahmannasimahttps://dokandaari.xyz
খুব ছোট বেলা থেকেই লেখালেখির খুব নেশা। তাই লেখতে ভালবাসি। আমি আতিকুর রহমান।ইনফরমেশন মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। কিছু টিপস এবং অনলাইনে আয় বিষয়ে সঠিক গাইডলাইন সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ব্লগিং এ জড়িত হয়েছি। ধন্যবাদ
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 + sixteen =

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular