Homeচাকরিচাকরির ইন্টারভিউ (Job Interview) তে কীভাবে সফল হবেন

চাকরির ইন্টারভিউ (Job Interview) তে কীভাবে সফল হবেন

চাকরির ইন্টারভিউ ত অনেক দিলেন । কেন আপনার চাকরি হচ্ছে না কখনো কি একবার ভেবে দেখেছেন? আমরা শুধু সবসময় নিজের ভাগ্যকে আর মামা চাচার জোরকে বুঝি। একটা কথা আমাদের মাথায় এখন সেট হয়ে আছে আর তা হল টাকা ছাড়া চাকরি হয় না। ব্শ্বিাস করুন আপনার যদি মেধা থাকে অবশ্যই আপনার কোন না কোন জায়গায় চাকরি হয়ে যাবে। তবে এটাও ঠিক বর্তমান চাকরির বাজার খুব কঠিন ।

মামা ছাড়া চাকরি করা এখন কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। তবে আজকে চাকরির ইন্টারভিউ তে আপনাকে কেমন ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করব। আমরা সাধারণত গতানুগতিক নিয়ম গুলো ই মেনে চলি। তবে আমি নিজেও কয়েকটি কম্পানিতে চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছি। এখানে আমার কিছু অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করব। তাই আশা করছি শুরু থেকে শেষ অবধি পড়ে যাবেন। তাহলে পরবর্তী ইন্টারভিউ এর সময় এই বিষয় গুলো আপনার মনে থাকলে ইন্টারভিউ টা অনেকটা সহজ হয়ে আসবে। ত চলুন শুরু করা যাক…..

চাকরির ইন্টারভিউ (Job Interview)

আমাদের সমাজে স্নাতক পাশ করে ও একটা চাকরির জন্য কতই না বেগ পেতে হয়। অনেকেই আবার চাররির পরীক্ষায় ভাল করে লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাক পান তারপর ইন্টারভিউ তে এসে আর হয় না। মনে রাখবেন সফলতার Firts step  ই হচ্ছে ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউ হচ্ছে আপনার যোগ্যতা প্রমাণের জায়গায়। তাই আপনাকে আপনার সেরাটাই সেইদিন দিতে হবে।

চাকরির ইন্টারভিউ
চাকরির ইন্টারভিউ

চাকরির ইন্টারভিউ তে যাওয়ার আগে আপনাকে কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে। যেমন…..

১) যাচাই করুন :



যারা আপনার ইন্টারভিউ নিবে তাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন, তারা কম্পানীর কোন পোস্টে রয়েছে, তাদের ইচ্ছা ও অনিচ্ছা কী । যতটুকু পারেন খবর নিয়ে রাখবেন।

২) ড্রেস আপ :
ড্রেস আপ এর প্রতি খেয়াল রাখুন । কোন দিক দিয়ে কোন সমস্যা আছে কি না । অনেকেই আছে ইন্টারভিউ দেয়ার সময় তাদের সার্টের হাতা তুলে রাখে । এটা একধরনের বাজে অভ্যাস। এই ভূল কখনো করবেন না। আর যদি করেন প্রশ্নকর্তারা ভেবে নিবে আপনি একজন নন-স্মার্ট লোক। তাই সেখানেই বিদায় দিয়ে দিবে। তার সাথে অনেকে সার্ট এর বোতাম ও খুলে রাথে । এটাও একধরনের অভদ্রতা। তাই এগুলো যেন কখনো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। বাংলাতে একটি প্রবাদ আছে আগে দর্শনধারী, পরে গুণ বিচারী।

বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল খেয়াল করলে বুজা যায় যে প্রথেম দেখার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যই মানুষ একজন অন্যজনকে বিচার করে ফেলে আর এটাকেই বলে first impression । যা মানুষে আজীবন মনে রাখতে পারে । আপনার সাথে কথা বলার আগেই তার আপনার পোষাক দেখেই আপনার ব্যক্তিত্ব যাচাই করে নেয়। আপনি জেনে আরও অবাক হবেন পোশাক পরিচ্ছদ প্রফেসনালিজমের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যর দিক থেকে দ্বিতীয় । তবে মনে রাখুন এখানে এমন কোন ড্রেস আপ এর কথা বলা হয় নাই যা অত্যন্ত দামী ও ব্যয়বহুল। যেকোন রুচিশীল শার্ট/টি-শার্ট পড়লেই হবে। এক্ষেত্রে ফরমাল ড্রেস ই বলা যেতে পারে।

৩) অনুমতি :

চাকরির ইন্টারভিউ তে প্রবেশ করার সময় আপনি তাদের কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে নিন। অনুমতি দিলে তারপর একটা ধন্যবাদ দিয়ে প্রবেশ করুন এবং বসার অনুমতি না দেয়া অবধি দাড়িয়ে থাকুন । উনারাই আপনাকে বসতে বলবে।তারপর বসুন।

 ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশ করার পর আপনার করনীয়

একটু খেয়াল করুন আমি উপরে যে ই তিন নাম্বার পয়েন্টা উল্লেখ করেছি সেটা কিন্তু এখানের ই বিষয়। অর্থাৎ উনারা বসার অনুমতি দিলে তবেই বসুন। এবার আসুন জেনে নিই আমাদের আরও কিছু করনীয় কি…আসলে করনীয় বা বর্জনীয় ও বলা চলে।

১) সোজা হয়ে সুন্দর করে বসুন। এদিক সেদিক নড়াচড়া করবেন না।

২) কখনো এক পা আরেক পা এর উপর রাখবেন না

৩) হাত গুটিয়ে বুকেন উপর রাখবেন না।

৪) একটু পর পর কপালে হাত দেয়া বা চুলকানো এসব করবেন না।

৫) যা প্রশ্ন করে তার উত্তর দিতে চেষ্টা করুন। কোন প্রকার বাড়িয়ে বলবেন না।

৬) মুখ গম্ভীর করে রাখবেন না । হালকা হাসি ফুটিয়ে রাখুন।

৭) তাদের সাথে সহজ ভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। সবকিছু শেষ হয়ে আসলে তাদের সাথে একটি হাসি দিয়ে হ্যান্ডসেক করে চলে আসুন।

 আরও পড়ুন : আউটসোর্সিং করে মাসে ১০০০ ডলার আয় করুন

চাকরির ইন্টারভিউ তে  কিছু কমন প্রশ্ন

১) আপনি কোন স্কিল টা সবচেয় ভালো?

এটা প্রায় অনেক চাকরির ইন্টারভিউতেই করে থাকে। এক্ষেত্রে আপনাকে খুব সচেতনতার সহিৎ উত্তর দিতে হবে। এখানে আপনি এমন উত্তর দিবেন যার উত্তর হবে প্রাসঙ্গিক ও প্রফেশনাল । মানে হল আপনার ভাল কাজ টি যেন উনাদের কাজের সাথে মিলে যায়। এখানে আপনি আসছেন কম্পিউটার অপারেটর হয়ে চাকরি করতে আর আপনি যদি বলেন আমি ফুঠবল খেলায় খুব পটু। তাহলে ব্যাপারটা তারা একদম ই হাস্যকর মনে করবে। আশা করছি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

২) আপনি নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন

ভাইভা তে যেই প্রশ্ন টা বেশী হয়ে থাকে তা হল আপনি নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন? এক্ষেত্রে আমরা যেই জিনিসটা ভূল করি তা হল আমি অমুক , আমি এত সালে পাস করেছি, আমার বাবা অমুক, অমুক কলেজে পড়াশোনা করেছি, এই সব হিজি বিজি বলে থাকি। মনে রাখবেন আপনি এই প্রশ্ন টি অনেক প্রফেশনাল ভাবে উত্তর দিতে হবে। যেমন আপনি যদি একজন ডিজিটাল মার্কেটার এর জন্য এপ্লাই করেন তাহলে তার উত্তর হবে এমন যে আমি অমুক । আমি গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের স্বনামধন্য ডিজিটাল কোম্পানী আইটি নাট ডিজিটাল এ সুনামের সহিত কাজ করে আসতেছি। উত্তর টি হবে ঠিক এমন। একদম প্রফেশনাল ।

৩) আপনি আমাদের কোম্পানিতে কেন আসতে চাচ্ছেন?

এটা ও খুব কমন একটি প্রশ্ন। আপনি আমাদের কোম্পানি তে কেন আসবেন? উত্তর টা হবে একটু প্রফেশনাল । এক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার বর্তমান কোম্পানি কে নিয়ে দুর্নাম করেন যে এই কোম্পানি ভাল না , এই কোম্পানিতে আমাকে সেলারী কম দেয় , কাজ করায় বেশী তাহলে আপনি ঔখানেই শেষ। আপনানি যেই কোম্পানিটাতে জয়েন হতে যাচ্ছেন তার সম্পর্কে আগে জেনে নিন তারপর আপনার প্রিভিয়াস কোম্পানির সাথে মিল রেখে নতুন কোম্পানির কিছু ভাল বৈশিষ্ট্য তুলে ধরুন। কখনো ই প্রিভিয়াস কোম্পানির বদনাম বা খারাপ কিছু বলবেন না।

বাংলায় ব্লগিং (Bangali Blogging) করে মাসে কত টাকা আয় করা সম্ভব?

৪) আপনার এক্সপেকটেট সেলারী কত?

এক্ষেত্রে আপনার প্রিভিয়াস কোম্পানি তে আপনার সেলারীর কথা তুলে ধরুন এবং তার সাথে মিল রেখে একটা সেলারী নির্ধারণ করুন। খুব বেশী আশা করবেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। তাছাড়া এই আপনার চয়েজ এর কোম্পানী  থেকে আপনার পোষ্ট এর জন্য তার কেমন সেলারী দিচ্ছে তা আগে ই ধারণা নিয়ে রাখতে পারেন।চাকরির ইন্টারভিউ

৫) আমাদের কোম্পানি সম্পর্কে আপনি কি জানেন




এই প্রশ্ন টি প্রায় সব ভাইভা তে ই করে থাকে । এজন্য আপনি যেকোন চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার আগেই ঐ কোম্পানি সম্পর্কে খুব ভালভাবে জেনে নিন । তাদের মিশন কি এবং ভিশন কি। তারা মুলত কি নিয়ে কাজ করে আরও অনেক কিছু। তাহলে এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে আপনার তেমন কঠিন মনে হবে না।

চাকরির ইন্টারভিউ এর জন্য কিছু টিপস :
  • কথা কম বলার চেষ্টা করুন। কারণ কথা বেশী বললে সবাই আপনাকে পাকনা মনে করে বাদ দিয়ে দিবে।
  • ভুল উত্তর দিবেন না। যদি না জানেন তাহলে বলুন স্যার এই প্রশ্নটির উত্তর আমার জানা নেই। কিন্তু কখনোই ভূল উত্তর দিতে যাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে।
  • সঠিক সিভি প্রদান করুন। অনেকেই সিভিতে স্কিলের কোনে কমতি রাখে না। আপনার জবের সাথে যায় এমন সব স্কিল গুলো আপনার সিভিতে উল্লেখ করুন এবং কোন রকম ভূল তথ্য সেখানে দিবেন না।
  • প্রশ্ন করুন তাদের কাছে। আপনি তাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া শেষে হলে ফাকে ফাকে তাদের কোম্পানি সম্পর্কে একটু একটু প্রশ্নস করুন। এতে তারা ভেবে নিবে যে এই ছেলেটার আগ্রহ আছে। তাদের মনে একটা ইতিবাচক সারা ফেলবে।

সবশেষে বলব :  আপনার মত এমন হাজার হাজার লোক চাকরির ইন্টারভিউ দিতে আসছে তাহলে আপনাকে তারা কেন বাছাই করবে। নিশ্চয়ই তাদের থেকে আপনাকে এমন কিছু এক্সট্রা অরডিনারী কিছু দেখানে হবে যা অন্যজনের কাছ নেই । কথা বার্তা , চাল চলনে খুব ই স্মার্ট ও ভদ্র থাকতে হবে। বুঝে শুনে তাদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে আপনি চাকরির ইন্টারভিউ তে ভাল ফলাফল আশা করতে পারেন। আর জ্ঞানের কোন সীমা নেই ।

যত পারেন জানার চেষ্টা করুন। যখন যেই কোম্পানি তে জয়েন করার চেষ্টা করেন সেই কোম্পানি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। তাছাড়া বাজারে অনেক ভাল ভাল জব সলুশন প্রতিবছর এই নতুন নতুন বই বের হচ্ছে। আপনি সেগুলো ও প্রতিদিন পড়ুন । তাহলে আপনি চাকরির ইন্টারভিউ তে ভাল করতে পারবেন। ধন্যবাদ।

Rahmannasimahttps://dokandaari.xyz
খুব ছোট বেলা থেকেই লেখালেখির খুব নেশা। তাই লেখতে ভালবাসি। আমি আতিকুর রহমান।ইনফরমেশন মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। কিছু টিপস এবং অনলাইনে আয় বিষয়ে সঠিক গাইডলাইন সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ব্লগিং এ জড়িত হয়েছি। ধন্যবাদ
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty + eighteen =

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular