Homeপড়াশোনাকম্পিউটারের জনক কে? আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?

কম্পিউটারের জনক কে? আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?

কম্পিউটারের জনক কে ? চার্লস ব্যাবেজ নাকি ওয়ার্ড অ্যাইকন। চার্লস ব্যাবেজ কে আধুনিক কম্পিউটার এর জনক বলা হয়ে থাকে। কিন্তু হাওয়ার্ড অ্যাইকন কে অনেকেই কম্পিউটার এর জনক হিসেবে জানেন। তার কারণ হচ্ছে কম্পিউটার তিনি ই প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন।তার পরবর্তীতে ব্যাবেজ কম্পিউটার এর আধুনিক ভার্সন আবিষ্কার করেছিলেন বিধায় তাকে আধুনিক কম্পিউটার এর জনক বলা হয়।

কম্পিউটারের জনক কে
কম্পিউটারের জনক কে

আমাদের মাঝে অনেকেই দ্বিধা দ্বন্ধে পড়ে থাকি যে কম্পিউটার এর জনক কে তা নিয়ে বা আধুনিক কম্পিউটার এর জনক কে এটা নিয়ে। উপরের আলোচনা থেকে আশা করছি কিছুটা হলেও ধারনা পেয়ে গেছেন।আজকে আমরা কম্পিউটার আবিষ্কার বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য এখানে জেনে যাব। কষ্ট করে আপনাকে পুরো আর্টিকেলটি পড়তে হবে।

কম্পিউটারের জনক কে

সাধারণত হাওয়ার্ড অ্যাইকন কেই প্রথম কম্পিউটার এর জনক বলা হয় কিন্তু হাওয়ার্ড অ্যাইকন সম্পর্কে গুগল বা উইকিপিডিয়ায় কোনো বই পুস্তক ও তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। যার কারণে হাওয়ার্ড অ্যাইকন কে কেন কম্পিউটার এর জনক বলা হয় তা নিয়ে অনেকের মাঝেই রহস্য কাজ করছে। আরও পড়ুন : বাংলায় ব্লগিং  করে মাসে কত টাকা আয় করা সম্ভব?

আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে?

মূলত চার্লস ব্যাবেজ ই আধুনিক কম্পিউটারের জনক। তিনি ১৮১০ সালে প্রথম যান্ত্রিক উপায় ব্যবহার করে সংখ্যা ও সারণী গণনা করার জন্য যন্ত্রের ব্যবহারের কথা ভাবেন।পরবর্তীতে তার ভাবনা কাজে লাগিয়ে ১৮৩০ সালে একটি গননাকারী যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র টির কোন রকম বুদ্ভিমতা ছিল না কিন্তু সেটি গানিতিক হিসাব করতে পারত। তাই মূলত এই যন্ত্রটিকে আধুনিক সংস্করণ হিসেবে প্রথমে গন্য করা হয়।

পরে এই যন্ত্রটি অ্যানালিটিকেল কম্পিউটার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে কিন্তু টাকার অভাব এর কারণে ব্যাবেজ এই কম্পিউটার তৈরীর কাজটি পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি । কিন্তু তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটি অনায়াসে গানিতিক হিসাব এর কাজে ব্যবহার করা হত । তার তৈরি কম্পিউটার অনেকটা আজকের আধুনিক কম্পিউটার এর সাথে মিলে যাওয়ার কারণে তাকে সবাই আধুনিক কম্পিউটার এর জনক বলে থাকেন।

চার্লস ব্যাবেজের জন্ম

চার্লস ব্যাবেজের জন্ম স্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাই অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ বাওগ্রাফি অনুযায়ী তিনি সম্ভবত ৪৪ ক্রসবি রো, ওয়ালওয়ার্থ রোড, লন্ডন ইংলেন্ডে জন্ম গ্রহণ করেন।চার্লস ব্যাবেজের ভাইপো জানান যে চার্লস ব্যাবেজে জন্ম হয়ে ছিল ১৭৯১ সালে।

চার্লস ব্যাবেজ ও তার মেশিন

বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ব্যবহারের জন্য ব্যাবেজের যুগে সারণীয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই গুলি হাতে গণনা করা হত। এবং তারপর টেবিলগুলিতে সংকলিত হয়। কখনো কখনো টেবিলে সংকলিত করার সময় বা গণনা করার সময় ভুল ত্রূটি হত।এই ব্যাকগ্রান্ডের সাথে চার্লস ব্যাবেজ এমন একটি যান্ত্রিক ডিভাইস ডিসাইন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলেন যেটি গণনা করতে পারে। যে একটি যান্ত্রিক মেশিন সর্বদা সঠিক গণনা করতে পারে এবং সময় কে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

ব্যাবেজ তার এই আধ্যাতিক চিন্তা ভাবনার মধ্যে দিয়ে তিনি বিজ্ঞান প্রকৌশলিক গণনা করার জন্য যন্ত্রটি বানানো শুরু করে ছিলেন।১৮১৯ সালে প্রথম ছোট মডেল বানিয়ে ছিলেন যা তার সেই মডেল টি সম্পূর্ণ হয় ১৮২২ সালে ( ডিফারেন্স ইঞ্জিন ০ )। এই মেশিনটি দিয়ে হ্যান্ডেল ক্র্যাস্ক করে চালানো হত অর্থাৎ হাত দিয়ে ঘুরিয়ে চালান হত। এটিই ছিল ডিফারেন্স ইঞ্জিন।

ব্যাবেজের জীবনে প্রচুর উন্নতি করার আশা ছিল। তাই তিনি আগ্রহের সাথে ১৮৩৭ সালে আনালিটিক্যাল ইঞ্জিন তৈরি করে ছিলেন। এই মেশিনটি অর্থাৎ আনালিটিক্যাল ইঞ্জিন সবচে শক্তি শালী ছিল তার আগের তৈরি ডিফারেন্স ইঞ্জিনের থেকেও। এই নির্মিত মেশিনটিই ছিল সাধারতন গণনার উদ্দ্যেশে এটিই ছিল প্রথম কার্যকরী কম্পিউটার।

তার মেশিন গুলি উদ্ভাবিত হওয়া প্রথম যান্ত্রিক কম্পিউটার গুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়ে ছিল। এগুলি যে বাস্তবে নির্মিত হয়নি তা কোনও নকশার অনুপযুক্তি কারনে নয়, অর্থের অভাবে হয়ে ছিল। তার ডিসাইন করা মেশিন যন্ত্র গুলি বিশাল আকৃতির ছিল তবে পার্থমিক ধারণাটি আধুনিক কম্পিউটারে মতো।

ব্যাবেজের সম্মাননা

প্রতিভাধর এই ব্যক্তিত্বের সম্মানে বিশ্ববিখ্যাত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তার স্মরণে বিভিন্ন স্থাপনা ও রাস্তার নাম রয়েছে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুপরবর্তী সময়েও তাকে নানান পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তার লেখা গ্রন্থগুলো এখন পাওয়া যায় ইন্টারনেটে।

ব্যাবেজের মৃত্যু

চার্লস ব্যাবেজ মৃত্যু হয়ে ছিল ১৮ অক্টোবর ১৮৭১ সালে। ব্যাবেজ ৭৯ বছর বয়সে মারা যায়। তাকে লন্ডনের কনসাল গ্রীন সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়।

পরিশেষে বলতে চাই , জর্জ হাওয়ার্ড আইকন নামের একজন বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ এর অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন ব্যবহার করে প্রথম ইলেক্ট্রিকেল কম্পিউটার MARK-1 তৈরী করেন। এজন্য আইকেন কে প্রথম ইলেক্ট্রিকেল কম্পিউটারের আবিষ্কারক বলা হয়ে থাকে।

এবার আমরা জানব ডিজিটাল কম্পিউটার এর জনক কে ?

মূলত ডিজিটাল কম্পিউটার এর প্রথম পরিকল্পনা করা হয় ১৯৩৬ সালে এবং আবিষ্কার করেন অ্যালান টুরিং । কিন্তু জন ভন নিউম্যান কে ডিজিটাল কম্পিউটার এর জনক বলা হয়ে থাকে। জন ভন নিউম্যান ছিলেন একজন হাঙ্গেরীয় বংশদূত ও মার্কিন গণিতবিদ। তিনি একাধারে সেটতত্ব, জ্যামিতি, অর্থনীতি, পরিসংখ্যান সহ আরো অনেক বিষয়ে অবদান রেখেছেন।

 

Rahmannasimahttps://dokandaari.xyz
খুব ছোট বেলা থেকেই লেখালেখির খুব নেশা। তাই লেখতে ভালবাসি। আমি আতিকুর রহমান।ইনফরমেশন মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি। কিছু টিপস এবং অনলাইনে আয় বিষয়ে সঠিক গাইডলাইন সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ব্লগিং এ জড়িত হয়েছি। ধন্যবাদ
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten + ten =

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular